Friday, April 6, 2018

চিঠি

বেকার বকবক #২১


তোমাকে চিঠি লিখিনি কোনদিন।  লেখার প্রয়োজন হয়নি।  প্রয়োজন হলেও হয়ত লেখা যেত না । ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ মনে পড়ল তোমার কথা আজ ।  মাইলের পর মাইল লম্বা একটা ব্রিজ।  রাতের অন্ধকারে খুব কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল না , রাস্তাটুকু ছাড়া।  দিনের বেলায় কতবার গেছি এই রাস্তায়।  কিন্তু আজ রাতে কেন জানিনা তুমি এলে , এই পথে, আমার সাথে।  অফিস থেকে বেরিয়ে যখন পার্কিং লট-এ হাঁটছি , তখন ঝুপ ঝুপ করে নামছে অন্ধকার।  সার বেঁধে গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে  আছে , মনমরা। গোল হয়ে উড়তে উড়তে কতগুলো অচেনা পাখি আকাশে শূন্য এঁকে দিয়ে যাচ্ছে লালচে কালো দিনশেষের আলোয়। ওই শূন্যের মধ্যে কি তুমি ছিলে ? তুমি কি ছিলে ওই শূন্যতায় ? চলে যাওয়া আলোর পথে ? তবে কেন আজ তুমি এইভাবে  … কি জানি , জানি না। ব্রিজের ওপর থেকে  দূরে , অনেকটা দূরে ঝাপসা দেখাচ্ছে ওপারটাকে।  ব্রিজ পেরোলেই পৌঁছে যাব যে প্রান্তে।  স্পষ্ট কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না।  শুধু কতগুলো আলোর বিন্দু।  ওপারে থমকে  থাকা কতগুলো বাড়ি , হয়ত রাস্তার আলো , ব্যস্ত জনবসতি , মিটমিট করে জ্বলছে একটা শহর।  আলোর বিন্দু গুলো জলের ওপর এঁকে দিয়ে যাচ্ছে একটা স্কেচ।  আর জলে ভাসতে ভাসতে স্কেচটা আমার কাছে আসছে , আরও কাছে। কাঁপা কাঁপা জলছবি  তে আমি দেখতে পাচ্ছি তোমায়।  

স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি লাইব্রেরীর মাঠ , গঙ্গার ঘাটে ভিড় করে কত লোকজন , সাঁ সাঁ করে চলে যাওয়া তিন নম্বর বাস , জিটি রোড। তিনটে ছেলে গঙ্গার ঘাটে জলে পা ডুবিয়ে বসে তর্ক করছে  সুনীল, শক্তি না অন্য্ কেউ ।  এক ফুচকাওয়ালা কিছুতেই ফাউ দেবে না , তাই নিয়ে রক্তচক্ষু একজন। সাইকেল চালিয়ে দুই বন্ধু পাশাপাশি তুমুল আড্ডা দিতে দিতে ফিরছে বাড়ি।  রিক্সার প্যাঁক প্যাঁক , বাইক , সাদা Amabassador. গলির মুখটা থমকে আছে , এগোচ্ছে না কিছুই।  রাস্তায় বসে আপেল , আঙুর , কমলালেবু বিক্রি করছে গোবিন্দদা , আর এক ভিখারী জুলজুল চোখে দেখছে।  এই সব , এই সব আমার চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে time lapse video র মতো ওই জলে।  ওই তো যতীন বাবু হনহন করে হেঁটে যাচ্ছেন , ট্রেন ধরার তাড়া।  সবার বাড়িতে রেডিওয় একসাথে সাতটা পঁয়ত্রিশের রবীন্দ্রসঙ্গীত, গাইছেন সুবিনয় রায়।  কলতলায় হৈচৈ , আপিসের ভাতের গন্ধ , ব্যস্ত দিন সেজে উঠছে আস্তে আস্তে। মাথা নীচু করে হেঁটে চলে গেল একটা মেয়ে, প্রাইভেট টিউশনে। ভোঁ ভোঁ করে সাইরেন বাজিয়ে ছুটে  গেল galloping train টা যে station ছাড়িয়ে  , তার নাম উত্তরপাড়া।  মফঃস্বল শহর , আমার শহর।  আর এইসবের মধ্যে তুমি।  আমি দেখছি তোমায়।  কতদিন পর।  কতদিন পর তুমি সব পাতা উল্টে উল্টে আমাকে দেখাচ্ছো সব কিছু।  

Readers Loved These Posts